রবিবার, ১৭ জুলাই, ২০১১

একটি স্বপ্নের মৃত্যু

একটি স্বপ্নের মৃত্যু

রবিবার, ১৭ জুলাই ২০১১
লিংকন মাহমুদ
 আর মাত্র ক’দিন পরই প্রকাশ হবে এইচএসসি পরীক্ষার ফল। এ পরীক্ষায় ভাল ফলাফল করবে। ভর্তি হবে বিশ্ববিদ্যালয়ে। নানা স্বপ্ন ছিল তার। বাবা-মাকে সুখী করবে। কোন স্বপ্নই পূরণ হলো না। এর আগেই মেধাবী ছাত্র হাবিবুর রহমান ওরফে মুন্না (২১) নামের এ স্বপ্নের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। অসুস্থ মাকে  হাসপাতালে খাবার দিয়ে বাসায় ফিরছিল মুন্না। রাস্তার পাশের নির্মাণাধীন একটি বহুতল ভবন থেকে ইট এসে পড়ে তার মাথায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় মুন্নার। আর এ জন্য দায়ী করা হয়েছে সাগুফতা গ্রুপের খামখেয়ালিপনা ও দায়িত্বে অবহেলাকে। ঘটনার পর থেকেই পলাতক ওই গ্রুপের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। আটক করা হয়েছে ৫ শ্রমিককে। এদিকে একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে ব্যবসায়ী পিতা আবুল কালাম আবু এখন পাগলপ্রায়। ছেলের মৃত্যুর খবর শোনার পর দু’ঘন্টা তিনি ছিলেন সংজ্ঞা হারিয়ে। রাজধানীর শমরিতা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মা মঞ্জুরা আক্তার এখনও জানেন না ছেলের মৃত্যু সংবাদ। ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ৩ দিন আগে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। গতকাল সকাল ১০টার দিকে মুন্না তার মাকে দেখতে হাসপাতালে যায়। মাকে খাবার দিয়ে বেলা ১২টার দিকে তেজগাঁওয়ের ৮৭/এ পূর্ব তেজতুরি বাজারের বাসায় ফিরছিল মুন্না। হাঁটছিল ফুটপাত দিয়ে। বেশি দূর এগোতে পারেনি সে। শমরিতা হাসপাতালের ডানপাশে একটি নির্মাণাধীন ভবন পার হয়ে সাগুফতা গ্রুপের নির্মাণাধীন ভবনের কাছে পৌঁছতেই ১২তলা থেকে একটি ইট এসে পড়ে তার মাথায়। ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায় তার মাথা। সঙ্গে সঙ্গেই মুন্না ঢলে পড়ে মৃত্যুর কোলে। দ্রুত তাকে শমরিতা হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে শেরেবাংলা নগর থানার এসআই নূরুল হক ময়না তদন্তের জন্য লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠান। এ  ঘটনায় আটককৃত সাগুফতার শ্রমিকরা হলো- মিজান হোসেন (২০), জুনাব (২২), ইয়াকুব (৪২), এবাদুল (৪০) এবং আশফাকুল (৪০)। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নির্মাণাধীন ভবন ছিল ১৮ তলার। পথচারীদের সুরক্ষার জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা নেয়নি। ভবনের নিচে দাঁড়িয়ে প্রত্যক্ষদর্শী নজরুল ইসলাম মানবজমিনকে জানান, আমি এ এলাকার বাসিন্দা। কোন সুরক্ষা না থাকায় এর নিচ দিয়ে আমি কখনও যেতাম না। ঘটনার সময় আমি পাশে দাঁড়িয়েছিলাম। হঠাৎ দেখি একটি ইট এসে এক পথচারীর মাথায় এসে পড়ে। সঙ্গে সঙ্গেই সে নিচে থাকা বাঁশের স্তূপের ওপর পড়ে যায়। সেখানেই তার মৃত্যু ঘটে। আরেক প্রত্যক্ষদর্শী মনির জানান, ১১ অথবা ১২তলা থেকে ইটটি পড়েছে। ঘটনা ঘটার আগে কোন সুরক্ষা ব্যবস্থা না থাকলেও পরে একটি নেট ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে। সরজমিন গিয়ে দেখা যায়, ঘটনার পর গেটে তালা লাগিয়ে ভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পালিয়ে গেছে। বিশেষ ব্যবস্থায় ভবনে ঢুকে দেখা যায় কয়েক জন নিরাপত্তাকর্মী ভেতরে রয়েছেন। তাদের একজন মজনু জানান, এখানে বিভিন্ন ফ্লোরে ১০০-১৫০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকেন। ভয়ে সবাই পালিয়ে গেছেন। তাৎক্ষণিকভাবে আমিও চলে গিয়েছিলাম। একটু আগে  এসেছি। বিভিন্ন ফ্লোরে ঘুরে ঘুরে দেখা গেছে, সেখানে যারা কাজ করে তারাও নিরাপদ নন। যে কোন সময় যে কোন শ্রমিক নিচে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হতে পারেন।
মুন্নার গৃহশিক্ষক রায়হান উদ্দিন রুমান জানান, মুন্না খুবই ভাল ছাত্র ছিল। তার ভাল ফলের ব্যাপারে আমি আশাবাদী ছিলাম। এক ভাই এক বোনের মধ্যে মুন্না ছিল বড়। তার একমাত্র বোন ৫ম শ্রেণীর ছাত্রী। মুন্না বাবা-মায়ের খুব আদরের ছিল। খুব সহজ-সরল প্রকৃতির মুন্না এ বয়সেও সে একা কোথাও যেতো না। তার মা তাকে স্কুলে আনা-নেয়া করতো। মায়ের অসুস্থতার কারণে সে একা বাসা থেকে বের হয়েছিল। তার একমাত্র স্বপ্ন ছিল গ্র্যাজুয়েট হওয়া। তার পিতা আবুল কালাম আবু নাহার স্টিলের প্রোপ্রাইটর। ১৪১/১, তেজতুরী বাজারে তার একটি স্টিলের আলমারীর দোকান রয়েছে। মুন্নার মামা সজীব জানান, ছেলেকে হারিয়ে আবু এখন মানসিক ভারসাম্যহীন। পুরো পরিবার শোকে কাতর। অসুস্থ থাকার থাকার কারণে মুন্নার মাকে এ দুঃসংবাদটি এখনও জানানো হয়নি। শেরেবাংলা নগর থানার ওসি সৈয়দ জিয়াউজ্জামান রাত ৮টার দিকে জানান, আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এখনও মামলা হয়নি। সাগুফতা গ্রুপের কাউকে পাচ্ছি না। মামলার পর ব্যবস্থা নেবো।

দোররা

দোররা

রবিবার, ১৭ জুলাই ২০১১
লিংকন মাহমুদ
সালিশে উপস্থিত শ’ শ’ মানুষ। টানটান উত্তেজনা। উপস্থিত স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান। গ্রাম্য মাতব্বররাও হাজির। অভিযুক্ত দু’বোন হাফিজা বেগম হ্যাপি ও সাঈদা বেগম এক কোণে দাঁড়িয়ে। সবার সামনে অভিযোগ পড়ে শোনানো হলো- ওরা আত্মহত্যায় প্ররোচনা দানকারী। হ্যাপির স্বামী হাসেম আলী গত ২৩শে জুন বিষপানে আত্মহত্যা করেন। কিন্তু মাতব্বরদের অভিযোগ এটি আত্মহত্যা নয়, পরিকল্পিত হত্যা। আর এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে হাসেম আলীর স্ত্রী হাফিজা বেগম হ্যাপি ও তার বোন সাঈদা বেগম। তাই ওদের শাস্তি একটাই- দোররা। সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর করা হয় এ শাস্তি। এ নিয়ে তোলপাড় রংপুরের সর্বত্র। কিন্তু কেন এ সালিশ ও শাস্তি? অনুসন্ধানে জানা যায়, সালিশের নামে দেশের প্রচলিত বিচার ব্যবস্থা ও আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নিজেদের ক্ষমতার দাপট আর স্বার্থ চরিতার্থ করছেন গ্রাম্য মাতব্বররা। অভাবের সংসারে স্বামী হারিয়ে ২ সন্তান নিয়ে হ্যাপি যখন চোখে অন্ধকার দেখছিলেন, তখন গ্রাম্য সালিশে মাতব্বররা তাকেই অপবাদ দেয়। তার কাঁধেই চাপিয়ে দেয় স্বামীর মৃত্যুর দায়। সালিশ বৈঠকে তার ওপর নেমে আসে আরেক দুর্যোগ। গত ২৬শে জুন দুপুরে রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার রাজারামপুর কাশীগঞ্জ গ্রামে প্রকাশ্যে এই সালিশ বসে। সালিশের মধ্যে অসহায় দুই নারীকে চরিত্রহীনা অপবাদ দিয়ে তাদের হাত-পা বাঁধা হয়। শ’ শ’ মানুষের সামনে তাদের ওপর চালানো হয় মধ্যযুগীয় নির্যাতন। নির্যাতনের পর তাদের তওবা পড়ানো হয়। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আয়নাল হকের উপস্থিতিতেই ঘটে এ ঘটনা।  কিন্তু বিচার নামে চালানো এ  পৈশাচিক নির্যাতনের কেউ প্রতিবাদ করেনি। বরং উল্লাসে ফেটে পড়ে অনেকে দিয়েছে হাততালি। নিজেদের জিঘাংসা চরিতার্থ করার পর যে যার মতো পরিতৃপ্ত মনে চলে গেছে বাড়ি। কিন্তু নির্যাতিত ওই দুই বোন মারাত্মক অসুস্থ হয়ে এখনও পড়ে আছে ঘরের অন্ধকার কোণে। তাদের চিকিৎসা নিতেও দেয়া হয়নি। সালিশে হ্যাপি ও সাঈদাকে কয়েক ঘণ্টা জেরা করা হয়। কিন্তু প্রতিবারই তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তারা অস্বীকার করেছেন। হ্যাপি ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, ২৩ তারিখ সকাল ১১টায় অভিমান করে বিষপান করেন তার স্বামী হাসেম আলী। এরপর তিনিই তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। দিনরাত জেগে স্বামীকে বাঁচিয়ে তুলতে চেষ্টা করেন। কিন্তু দু’দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ২৫শে জুন স্বামী মারা যান। এসব কথা বলে মাতব্বরদের হাত-পা ধরে অনেক কান্নাকাটি করেন হ্যাপি। কিন্তু কোন লাভ হয়নি। মন গলেনি মাতব্বরদের। সালিশ বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় দু’বোনকে পেটাবে স্থানীয় মাতব্বর চিকনা এনামুল, মোটকা এনামুল ও হ্যাপির দূর সম্পর্কের ভাই আবদুল আউয়াল। সে অনুযায়ী প্রথমে দু’বোনের হাত-পা বাঁধা হয়। এরপর লোহার রড দিয়ে পেটানো হয়। ৩ জন বলবান পুরুষের পিটুনিতে সংজ্ঞা হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন অসহায় দু’বোন। কিন্তু ক্ষান্ত হননি মাতব্বররা। তাদের মাথায় পানি ঢালা হয়। সংজ্ঞা ফিরলে আবার দেয়া হয় পিটুনি। এরপর তাদের তওবা পড়ানো হয়। তওবা পড়ান স্থানীয় এহিয়াগঞ্জ দাখিল মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা সেকান্দর আলী। বিচারের রায় দেন চেয়ারম্যান আয়নাল হক। আর রায় কার্যকর করে আউয়াল, চিকনা এনামুল ও মোটকা এনামুল। এরপর ঘটনা যাতে প্রকাশ না হয় সে জন্য দু’বোনকে সাবধান করে তাদের কাছ থেকে সাদাকাগজে সই নেয়া হয়। এ ঘটনা যখন চলছিল তখন তো নয়ই পরেও পুলিশ রহস্যজনক কারণে নীরব থাকে। ঘটনার ১২ দিন পর এ বিষয়ে থানায় মামলা হয়। সে মামলা পুলিশ করেনি, করেছেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে মামলার সময়ও আসামিদের পক্ষ নিয়েছে পুলিশ। নারী নির্যাতনের মামলা নেয়া হয়নি। মামলায় দণ্ডবিধির ৩২৩ ও ৩৫৪ ধারা বসানো হয়েছে যা জামিনযোগ্য। থানার ওসি’র বক্তব্য- পত্রিকা পড়ে তিনি ধারা বসিয়েছেন। তাই নারী নির্যাতনের ধারা বসানোর বিষয়টি তার মাথায় আসেনি। ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে নির্যাতনকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করে কয়েকটি মানবাধিকার সংগঠন মানববন্ধন, সভা-সমাবেশ করেছে। তারা পুলিশের নীরব ভূমিকার প্রতিবাদ জানিয়ে মাতব্বরদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঘটনার পর মাতব্বরদের ও চেয়ারম্যানকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু রহস্যজনক কারণে  কাউকেই গ্রেপ্তার করা হয়নি। উল্টো সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলায় নির্যাতিত দু’বোনকে হত্যার হুমকি দেয়া হচ্ছে। এমনকি চেয়ারম্যানের নির্দেশে সাংবাদিকদের ওপর হামলাও চালানো হয়েছে। গতকাল হ্যাপি ও সাঈদার সঙ্গে যোগাযোগ করেন আমাদের বদরগঞ্জ প্রতিনিধি রমজান আলী। হ্যাপি জানান, তার পায়ের ক্ষত শুকায়নি। তিনি এখনও হাঁটতে পারছেন না। স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও  একটি এনজিও’র পক্ষ থেকে সামান্য সাহায্য পাওয়া গেছে। কিন্তু সেটা দিয়ে চিকিৎসা শেষ করা সম্ভব হয়নি। সাঈদা জানান, তার পায়ে ইনফেকশন দেখা দিয়েছে। ঘটনার পর থেকে তিনি ঘরেই পড়ে আছেন। কোন ধরনের চিকিৎসা নিতে পারেননি। তারা জানান, চেয়ারম্যান আয়নালের সাঙ্গপাঙ্গরা নিয়মিত তাদের হুমকি দিচ্ছে। নির্যাতনকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়েছেন তারা। বদরগঞ্জ থানার ওসি তোবারক আলী বলছেন, আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে চেয়ারম্যানসহ অন্য আসামিরা পলাতক থাকায় গ্রেপ্তার করা যাচ্ছে না। তবে গ্রামবাসী বলছে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে আয়নাল চেয়ারম্যান, তার সহযোগী মাওলানা সেকান্দর আলীসহ অন্যরা। কিন্তু পুলিশ তাদের ধরছে না। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান বলেছেন, অবিলম্বে আসামিদের গ্রেপ্তার করে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে।  সেই সঙ্গে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিও নিশ্চিত করতে হবে- যাতে আর কেউ এ ধরনের জঘন্য কাজ করার সাহস না পায়। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক এলিনা খান বলেন, প্রচলিত বিচার ব্যবস্থাকে এড়িয়ে বিচারের নামে এ ধরনের প্রহসন আইনের দৃষ্টিতে গুরুতর অপরাধ। আর কোন তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই একতরফা ভাবে রায় দিয়ে দু’জন অসহায় নারীর ওপর নির্যাতন চালিয়ে মাতব্বররা আইন নিজের হাতে তুলে নিয়েছেন। তাদের গ্রেপ্তার করে দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।
ওদিকে এই ঘটনার সংবাদ কাভার করতে গেলে একুশে টেলিভিশনের অনুসন্ধানী দলের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলায় আহত হন একুশে টিভি’র রংপুর প্রতিনিধি লিয়াকত আলী বাদল, রিপোর্টার জেমসন মাহবুব, ক্যামেরাম্যান এমএএইচ রাসেল। অভিযুক্ত আয়নাল চেয়ারম্যানের বক্তব্য নেয়ার জন্য সাংবাদিকরা তার বাড়ির দিকে যেতে চাইলে আয়নালের ক্যাডাররা একুশে টেলিভিশনের ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়। তারা চালকের কাছ থেকে গাড়ির চাবি আর মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। পরে সাংবাদিকদের একটি বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ এসে তাদের উদ্ধার করে পাশের একটি বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে ঘণ্টাখানেক রাখার পর পুলিশ নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করে সাংবাদিকদের বদরগঞ্জ থানায় নিয়ে যায়। সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা করা হয়। হত্যাচেষ্টা মামলায় আসামি হয় আয়নাল চেয়ারম্যান, মাওলানা সেকান্দর আলী ও তাদের সহযোগীরা। ঘটনা শোনার পর আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এই রিপোর্ট প্রণয়নে ইটিভির সহযোগিতা নেয়া হয়েছে।

টাইম ম্যাগাজিনের প্রতিবেদন: বাংলাদেশে দোররা মেরে হত্যা চলছে
মানবজমিন ডেস্ক: অনেক ক্ষেত্রেই অপরাধ দমনের ক্ষেত্রে আইন যথেষ্ট নয়। বিশেষ করে বাংলাদেশের হেনা আক্তারের ক্ষেত্রে আইন যথেষ্ট ছিল না। গত জানুয়ারিতে হেনাকে দোররা মেরে হত্যা করা হয়। ধর্ষণ থেকে রেহাই পাওয়ার পর ১৪ বছরের হেনাকে ব্যভিচারী বলে অভিযোগ এনে স্থানীয় মাতবর এবং মৌলভীরা ১০০ ঘা দোররা মারার শাস্তি দেন। হেনার মা বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছিলেন, ওই ঘটনার পর হেনা কথা বলতে পারতো না, কিছু খেতেও পারতো না। তার নাক, কান ও মুখ দিয়ে কেবল রক্ত বের হতো। দোররা মারার কয়েকদিন পরেই হেনার মৃত্যু হয়। গত ১১ই জুলাই অনলাইন টাইম ম্যাগাজিনে ‘জেন্ডার জাস্টিস: ইজ বাংলাদেশ ইগনোরিং ফতোয়া ভায়োলেন্স এগেইস্ট ওমেন?’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এসব কথা লিখেছেন এমিলি রাউহালা। তিনি আরও লিখেছেন, ওই ঘটনার পর কমপক্ষে তিন তরুণী একই ধরনের বর্বর এবং অবৈধ শাস্তির কারণে আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছে। এক বছর আগে বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট নারীদের বিরুদ্ধে বিচার বহির্ভূত সহিংসতা দমনে এক নির্দেশ জারি করেছিল। দেশের আইনে নারী অধিকার রক্ষা করা হলেও স্থানীয় পরিষদ প্রতিনিয়তই তা লঙ্ঘন করছে। ফতোয়া সাধারণ ইসলাম সম্পর্কে অভিজ্ঞ ব্যক্তিরাই দিয়ে থাকেন। এর আওতায় শাস্তির মধ্যে জনসম্মুখে দোররা মারা থেকে শুরু করে মুখে কালি মাখা বা চুল কেটে দেয়ার শাস্তিও দেয়া হয়। স্থানীয় এনজিও ‘আইন ও সালিশ কেন্দ্র’ গত ১০ বছরে এ ধরনের শ’ শ’ ঘটনা নথিবদ্ধ করেছে। তারা এবং অন্য সংগঠনগুলো বলছে নারীদেরকে সহিংসতার হাত থেকে রক্ষা করতে সরকার যথেষ্ট কাজ করছে না। অবশ্য এ চিত্র কেবল বাংলাদেশের একার নয়। সমপ্রতি ইউএন উইমেন প্রকাশিত এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, বেশ কিছু ক্ষেত্রে অগ্রগতি সত্ত্বেও বিশ্বব্যাপী নারীরা প্রকৃতপক্ষে বিচারের ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হয়। উদাহরণ হিসেবে ইউএন উইমেন-এর এক রিপোর্টে বলা হয়েছে ১৩৯ অনুচ্ছেদে লিঙ্গ সমতা নিশ্চিত করা হয়েছে, ১১৭ অনুচ্ছেদে সম পারিশ্রমিক দেয়ার নির্দেশ রয়েছে এবং ১২৫ অনুচ্ছেদে পারিবারিক সহিংসতা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এরপরেও সমতা সুদূরপরাহত, পারিশ্রমিকে বৈষম্য রয়েছে আর নারীর ওপর সহিংসতা এখনও চলছে। হাফিংটন পোস্টে লেখা এক মতামত কলামে ইউএন উইমেনের প্রধান মিসেল ব্যাচলেট লিখেছেন- সমতা দেয়ার প্রতিশ্রুতি আর তৃণমূল পর্যায়ে সেটা বাস্তবায়ন করা এক কথা নয়। দুঃখজনক হলেও নারীদের আইনগত অধিকারের নিশ্চয়তা এবং তাদের দৈনন্দিন জীবন যাপনের ক্ষেত্রে বিশাল ব্যবধান রয়েছে। এ বিষয়টি আমাদেরকে আবার বাংলাদেশে ফিরিয়ে নিয়ে আসে। সুপ্রিম কোর্টের ওই নির্দেশের বার্ষিকী পালন উপলক্ষে বাংলাদেশের কয়েকটি নামী এনজিও সহিংসতা এবং অপমানকে বৈধতা দিতে ফতোয়ার ব্যবহারের বিরুদ্ধে সরকারকে কথা বলার আহ্বান জানিয়েছে। তারা স্কুল-কলেজ এবং মাদরাসাতে গণশিক্ষা প্রচারণা চালানোর আহ্বানের পাশাপাশি নির্যাতিত নারীদেরকে আইনগত, আর্থিক এবং মানসিক সমর্থন দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। জাতিসংঘের সমীক্ষাতে দেখা গেছে, বুরুন্ডিতে প্রচলিত বিচার ব্যবস্থায় নারীর অংশগ্রহণ তাদের অবস্থান উন্নত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। আশা করি বাংলাদেশও এ লক্ষ্যে একই পথ অনুসরণ করবে।

ছাত্রীকে যৌন নির্যাতন, আলোচিত সেই চিঠি

ছাত্রীকে যৌন নির্যাতন,
আলোচিত সেই চিঠি
লিংকন মাহমুদ
ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বসুন্ধরা শাখার শিক্ষক পরিমল জয়ধর কর্তৃক দশম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানি নিয়ে দেশব্যাপী আলোড়ন চলছে। ওই ছাত্রী প্রথমে ২৮শে জুন কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করে। তাতে পরিমলের শাস্তি দাবি করা হলেও যৌন হয়রানির বিষয়ে কিছু বলা ছিল না। পরে ৪ঠা জুলাই অধ্যক্ষ বরাবর লিখিত অভিযোগে তার ওপর যৌন হয়রানির বিস্তারিত বর্ণনা দেয় সে। তা সংবাদপত্রে প্রকাশের পরই ভিকারুননিসার শিক্ষার্থীরা ক্ষোভে ফেটে পড়ে। আন্দোলনে নামে তারা। আন্দোলনে যোগ দেন অভিভাবকরাও। ৪ঠা জুলাই লিখিত চিঠির পরই আন্দোলন জোরদার হয়। সেই চিঠিটি হুবহু এ রকম- ‘সবিনয় নিবেদন এই যে, আমি (নাম) জন্ম ১৮/১১/১৯৯৬। আমি ভিকারুননিসা নূন স্কুলের বসুন্ধরা দিবা শাখার একজন নিয়মিত ছাত্রী। আমি ছাত্রী হিসেবে ভাল ফলাফলের জন্য প্রতি বিষয়েই স্কুলের শিক্ষকদের কাছে কোচিং করি। যেমন লুৎফর রহমান স্যারের কাছে গণিত, মাহবুবুল হক স্যারের কাছে ইংরেজি, জাহাঙ্গীর আলম স্যারের কাছে পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়ন, জিনাতুন্নেছা আপার কাছে জীববিজ্ঞান এবং পরিমল জয়ধর স্যারের কাছে বাংলা। অত্র স্কুলে আমি চতুর্থ শ্রেণী থেকেই পড়ে আসছি। পরিমল জয়ধর স্যার স্কুলে বাংলা বিষয় পড়ান বলে আমি তার কোচিংয়ে গত মে ২০১১ থেকে ১০ জনের ব্যাচে পড়া শুরু করি। আনুমানিক ২০-২৫ দিন পরে কোচিং ক্লাসে পড়তে যাওয়ায় আমার একটু বিলম্ব হয়। দেরিতে যাওয়ায় যেটুকু পড়ায় আমি অনুপস্থিত ছিলাম সেটুকু পড়া স্যার আমাকে বুঝিয়ে দেবেন বলে দেরি করতে বলেন। সবাই চলে যায়; কিন্তু আমি রয়ে যাই। সবাই চলে গেলে আমি আগের পড়াটুকু পড়তে থাকি। স্যার মূল গেট বন্ধ করে রুমে এসে দরজা বন্ধ করে দেন এবং আমি কিছু বোঝার আগেই আমার মুখ বেঁধে ফেলেন। মুখ বাঁধা থাকায় আমি কিছু বলতে পারিনি। হাত ছোড়াছড়ি করতে যাওয়ায় তিনি আমার ওড়না দিয়ে আমার হাত পেছনে বেঁধে ফেলেন। হাত বেঁধে আমাকে ভীষণ মারধর করেন। মারধর করে আমাকে উলঙ্গ করে ফেলেন এবং আমার ছবি তোলেন। ছবি তোলার পর আমাকে শারীরিক নির্যাতন করেন। ঘটনার আকস্মিকতায় আমি হতভম্ব হয়ে যাই এবং মানসিকভাবে ভেঙে পড়ি। এরপর আমার বাঁধন খুলে দেন এবং সাবধান করে দেন যে ঘটনা কাউকে বললে, নিয়মিত তার ক্লাস না করলে, আমার ছবি ইন্টারনেটে ছেড়ে দেবেন এবং আমাকে মেরে ফেলার হুমকি পর্যন্ত দেন। এতে আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ি এবং দিশেহারা হয়ে যাই। এরপর জুন ১৭ তারিখ লুৎফর স্যারের ব্যাচ থেকে পড়ে আমি পরিমল স্যারের ব্যাচে পড়তে যাই। তখন অন্য ব্যাচ পড়ছিল। স্যার আমাকে পাশের রুমে বসতে বলেন এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই ব্যাচ ছুটি দিয়ে সদর দরজা বন্ধ করতে যান। তখন আমি দৌড়ে গিয়ে তাকে দরজা বন্ধ করতে বারণ করি। তখন সে আমাকে ধাক্কা দেন এবং মাথা দেয়ালে লাগায় আমি মাথায় ব্যথা পাই। তখন আমাকে ধমক দেন যে, ‘তোকে বলেছি আমার ইচ্ছার বাইরে যাবি তো তোকে জানে মেরে ফেলবো’। এরপর আমাকে শারীরিক ও পাশবিক নির্যাতন করেন। জুন ১৮ তারিখ সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় ১৯ জুন তারিখে ঘটনাটি আমার সহপাঠীদের অবহিত করি। তারা আমাকে ঘটনাটি শাখা প্রধানকে জানাতে বলে। তারা আমাকে পরামর্শ দেয় যে, শাখা প্রধান এ বিষয়টির সুষ্ঠু বিচার করতে পারবেন। সেদিন আমি আমাদের শাখা প্রধান লুৎফর রহমান স্যারকে ব্যাপারটি বলতে যাই। কিন্তু তিনি ব্যক্তিগত বা স্কুলের কাজে স্কুলে ছিলেন না বিধায় তাকে ওইদিন ঘটনাটি জানাতে পারিনি। জুন ২০ তারিখ স্যার স্কুলে অনুপস্থিত ছিলেন। জুন ২১ তারিখে তিনি স্কুলে আসেন এবং আমি তাকে সুযোগ বুঝে ব্যাপারটি জানাই। তিনি আমাকে বললেন যে, তিনি ঘটনাটি দেখবেন। লুৎফর রহমান স্যারকে ঘটনা জানানোর পরও ২২ তারিখে পরিমল স্যার স্কুলে এলে আমি লুৎফুর স্যারকে পুনরায় ব্যাপারটি বলি। তিনি আমাকে ব্যাপারটি ভেবে দেখছেন বলে আশ্বস্ত করেন। জুন ২৩ তারিখে স্কুলে অভিভাবক মিটিং ছিল যেখানে আমাদের স্কুলের অধ্যক্ষ হোসনে আরা বেগমও উপস্থিত ছিলেন। সেদিন পরিমল স্যারকে আমরা স্কুলে দেখিনি। এরপর ২৬ ও ২৭ তারিখ অসুস্থতার কারণে আমি স্কুলে উপস্থিত হতে পারিনি। জুন ২৮ তারিখে স্কুলে গেলে আমাদের দশম শ্রেণীর সব ছাত্রী পরিমল স্যারের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় আমরা আলোচনায় বসি। আলোচনায় তার সম্পর্কে আরও কিছু কুরুচিপূর্ণ কথা উঠে আসে। তখন আমরা সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেই যে, আমরা অধ্যক্ষকে এ ব্যাপারে অবহিত করবো। তাই আমরা পরিমল স্যারের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করে আবেদনপত্র তৈরি করি।’ আবেদনপত্রটি ক্লাসে পড়ে শোনালে স্বেচ্ছায় সবাই এতে নিজ নিজ নাম স্বাক্ষর করে। এরপর আবেদনপত্রটি শাখা প্রধান জনাব লুৎফর রহমান স্যারের মাধ্যমে অধ্যক্ষ বরাবর পৌঁছে দেয়ার অনুরোধ জানাই। উল্লেখ্য যে, আমি স্কুলে অনুপস্থিত থাকাকালীন ২৭ তারিখে ঘটনাটি স্কুলে জানাজানি হয়ে যায়। অতএব, এ ব্যাপারটি আপনার সুবিবেচনায় এনে আমার ওপর পরিমল স্যার যে বর্বোরচিত, অমানবিক, অনৈতিক, ঘৃণিত ও পাশবিক আচরণ করেছেন তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও বিচারের দাবি জানাচ্ছি।

শুক্রবার, ৮ জুলাই, ২০১১

নানা আয়োজনে ¯^রকল্পের ১১ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন শুরু


bvbv Av‡qvR‡b ¯^iK‡íi 
11 Zg cÖwZôv evwl©Kx cvjb ïiæ
wjsKb gvngy`
bvbv Av‡qvR‡b mvs¯‹„wZK msMVb ¯^iKí Zv‡`i cÖwZôv evwl©Kx cvjb ïiæ K‡i‡Q| G Dcj‡ÿ `yw`b e¨vcx bvbv Kg©m~wP nv‡Z wb‡q‡Q msMVbwU|
MZKvj ïµevi mKv‡j XvKv wek¦we`¨vjq QvÎ wkÿK wgjbvqZb (wUGmwm) †_‡K ewY©j i¨vjx †ei K‡i| we‡K‡j wkíKjvq bvU¨vbyôvb QvovI AvR‡K †bqv n‡q‡Q Ave„wË I weRqx‡`i g‡a¨ cyi¯‹vi weZibx Abyôvb| MZKvj‡Ki i¨vjx‡Z †`‡ki cÖwZhkv QovKvi Ave„wËKvi I gy³g‡bi ZiæY ZiæYxiv I bvbv eq‡mi mvwnZ¨wcÖq e¨w³Z¡iv Ask †bq| Zv‡`i g‡a¨ nvmvb Avwid, KvRx Avwid, gvwn`yj Bmjvg, dqRyjøvn mvC`I i‡q‡Qb| 

AvjvcKv‡j Zviv ˆ`wbK evsjvevRvi cwÎKv‡K Rvbvb, cÖwZeQ‡ii b¨vq GeviI Avgiv RvKRgKc~Y© Av‡qv‡Rb Avgv‡`i mvs¯‹…wZK msMV‡bi cÖwZôvevwl©Kx cvjb Kie|
Zviv Rvbvq, wUGmwmi i¨vjx we‡K‡j wkíKjv GKv‡Wwg‡Z Avwbmyj n‡Ki i½fiv e½‡`k Abyôvb cvwjZ n‡q‡Q| i½fiv e½‡`k AbyôvbwUi wb‡`©kbvq wQ‡jb dqRyjøvn mvC`| ZvQvov AvR kwbevi ¯‹zj, K‡jR I wek¦we`¨vjq ¸‡jv‡Z Ave„wË cÖwZ‡hvwMZv n‡e| cÖwZ‡hvwM‡`i g‡a¨ weRqx‡`i‡K wZbfv‡M fvM K‡i †gvU bq Rb‡K cyyi¯‹…Z Kiv n‡e| bqR‡bi cÖ‡Z¨K‡K cyi¯‹v‡ii cvkvcvwk mvwU©wd‡KU I †µ÷ †`Iqv n‡e| ZiæY Ave„wËKvi Avwjg Avgv‡`i Rvbvb,¯^iKí hw`I eo GKwU cÖwZôvb| G‡K bZzbfv‡e Dc¯’vc‡bi wKQz bvB| Zvic‡iI ¯^iKí‡K gvby‡li gv‡S †g‡j aivi Rb¨ Gi cÖwZôvevwl©Kx‡Z G ai‡bi Kvh©µg nv‡Z wb‡q _vwK|  

রবিবার, ৩ জুলাই, ২০১১

হরতালে ঢাবিতে আটক ৩০ আহত অর্ধশত


niZv‡j Xvwe‡Z AvUK 30 AvnZ Aa©kZ
wjsKb gvngy`
RvZxq KwgwUi WvKv Aa©w`em niZvj cvjb Kv‡j XvKv wek¦we`¨vjq K¨v¤úvm ‡_‡K evg `‡ji 30 ‡bZvKg©x‡K AvUK K‡i‡Q cywjk| MZKvj ‡iveevi mKvj ‡_‡K `ycyi 12Uv ch©šÍ ‡K›`ªxq cvewjK jvB‡eªix, wUGmwm, ‡`v‡qj PZ¡‡i niZvj mg_©‡b we‡¶vf wgwQj I mgv‡ek K‡i‡Q wewfbœ cÖMwZkxj QvÎmsMVb| Gmgq cywj‡ki jvwVPv‡R© niZvj mg_©bKvix cÖvq Aa©kZ ‡bZvKg©x AvnZ nq|
cªZ¨v¶`k©xiv Rvbvq, mKvj mv‡o QqUvi w`‡K niZvj mg_©‡b XvKv wek¦we`¨vj‡qi wUGmwm ‡_‡K RvZxq KwgwU GKwU wgwQj ‡ei K‡i| wgwQjwU wUGmwm  ‡_‡K kvnevM ‡gv‡o ‡M‡j cywjk wgwQjKvix‡`i Ici e¨vcK jvwVP©vR K‡i Ges ‡mLvb ‡_‡K 13 Rb‡K ‡MÖdZvi K‡i| ‡MªdZviK…Ziv n‡jb-mvBd, Rqivq Kg©Kvi, dvwng, mywkg ivq, wgmyK, ‡mvgv, mywg Bmjvg cªgyL| cywj‡ki nvgjvq msMV‡bi 7 ‡bZv Kg©x AvnZ nq| G‡`i ‡g‡a¨ i‡q‡Qb- ‡mœnv`©x PµeZ©x wi›Uy, wbjq, iv‡m`, Bfv gRyg`vi, dvnv`yi ingvb, cÖxwZjZv cªgyL|
Gici mKvj AvUUv 50 wgwb‡U niZvj mg_©‡b GKwU wgwQj PviæKjvi mvgb ‡_‡K wUGmwm n‡q ‡`v‡qj PZ¡i w`‡K hvevi ‡Póv Ki‡j cywj‡ki m‡½ avIqv-cvëv avIqvi NUbv N‡U| G mgq cywjk ivRy fv¯‹‡h©i mvg‡bi wgwQj ‡_‡K Pvi Rb QvÎxmn ‡gvU 7 Rb‡K ‡MÖdZvi K‡i|
Gw`‡K mKvj 10Uvi w`‡K ivRy fv¯‹‡h©i mvg‡b GK mgv‡e‡k ‡Zj-M¨vm-LvbR m¤ú` I we`¨yr-e›`i i¶v KwgwUi Avn&evqK cª‡KŠkjx ‡kL ‡gv.knx`yjøvn e‡jb, Kb‡Kv wdwjc‡mi m‡½ Kiv miKv‡ii Pyw³ evwZj I LwbR m¤ú` i¶v AvBb ev¯Íevqb bv Kiv n‡j K‡Vvi Av‡›`vjb M‡o Zyjv n‡e|
Gw`‡K niZvj mg_©‡b XvKv wek¦we`¨vj‡qi wUGmwmi ivRy fv®‹‡h©i mvg‡b e½eÜy Ges ‡kL nvwmbvi Qwe Av¸‡b cywo‡q ‡`Iqv n‡q‡Q| G NUbvq kvnevM _vbv cywjk NUbv¯’j ‡_‡K 14 ‡bZv Kg©x‡K ‡MÖdZvi K‡i| G w`‡K niZvj mg_©‡b evsjv‡`k QvÎ ‡dWv‡ikb Xvwe ‡bZv Kg©xiv wgwQj wb‡q kvnevM ‡gv‡o Avm‡j cywjk e¨vcK jvwVPv‡R© AšÍZ 7Rb ‡bZvKg©x AvnZ nq| G mgq cywjk 13 ‡bZv Kg©x‡K AvUK K‡i|
Qwe ‡cvov‡bi welq A¯^xKvi K‡i evg msMV‡bi ‡bZvKg©xiv e‡jb, e½eÜy Ges ‡kL nvwmbvi Qwe ‡cvov‡bvi welqwU wfwËnxb|
G wel‡q kvnevM _vb cywjk Kg©KZ©v ‡iRvDj Kwig Rvbvb, AvBbk„•Ljvi AebwZ, Mvwo fvsPyi, AvZ¼ m„wó Kiv I cÖavbgš¿xi Qwe‡Z AwMœms‡hvM Kivq Zv‡`i ‡MÖdZvi Kiv n‡q‡Q| cywjk‡K ivó«xq Kv‡R evav cÖ`vb I AwMœms‡hvM Kivi Awf‡hv‡M gvgjv Kiv n‡e|
G w`K niZvj mg_©bKvixiv XvKv wek¦we`¨vj‡qi Kjv fe‡bi mKj cix¶v ‡K‡›`ªZvjv jvwM‡q ‡`q| c‡i cÖ±i ‡K Gg mvBdyj Bmjvg Lvb cywj‡ki mnvqZvq cix¶vi e¨e¯’v K‡ib| Z‡e ‡K ev Kviv Zvjv w`‡q‡Q Zv wbwðZ n‡Z cv‡i wb wek¦we`¨vjq cÖkvmb|

গণসংহতি সংস্কৃতি মঞ্চ ছাত্র ফেডারেশন নেতৃবৃন্দের মুক্তি দাবি


nvgjv-wbh©vZb I †MÖdZv‡ii Zxeª wb›`v
MYmsnwZ ms¯‹…wZ g QvÎ
†dWv‡ikb ‡bZ…e„‡›`i gyw³ `vwe
wjsKb gvngy`
†Zj-M¨vm-LwbR m¤ú` we`y¨r e›`i iÿv RvZxq KwgwUi AvûZ Aa©w`em niZvj cvjbKv‡j AvBb k„•Ljv evwnbxi nv‡Z †MÖdZviK…Z evg msMV‡bi †bZ…e„‡›`i gyw³ `vwe K‡i‡Q MYmsnwZ, ms¯‹…Z g I Qv·dWv‡ikbmn mKj evg msMVb| MZKvj iweevi Kivi Rb¨ wewfbœ msMV‡bi †bZv Kgx©iv mKvj 6Uvq iv¯Ívq bvgvi mv‡_ mv‡_B cywjk Zv‡`i Ici Suvwc‡q c‡o| cÖ_g `dv‡ZB RvZxq KwgwUi m`m¨ mwPe Avby gynv¤§`, MYmsnwZ Av‡›`vj‡bi cÖavb mgš^qKvix †Rvbv‡q` mvwK, wecøex IqvK©vm cvwU©i mvaviY m¤úv`K mvBdyj nK, evm‡`i †K›`ªxq m`m¨ iv‡RKz¾vgvb iZb, MYZvwš¿K wecøex cvwU©i mvaviY m¤úv`K †gvk‡idv wgï mn evg msMV‡bi cÖvq †`o kZvwaK †bZvKgx©‡K cëb, kvnevM XvKv wek¦we`¨vjq GjvKv †_‡K AvUK Kiv nq|
evg msMV‡bi `vwe, ¯^Ztù~Z© AskMÖn‡Y mdjfv‡e niZvj m¤úbœ n‡q‡Q| niZv‡ji gva¨‡g RbMY miKv‡ii `vw¤¢K evMvo¤^‡ii Reve w`‡q‡Qb| niZvj cvj‡bi gva¨‡g RbMY Zv‡`i ivq Rvwb‡q‡Qb| Zviv †`kwe‡ivax Pzw³‡K †Kvbfv‡eB †g‡b †b‡eb bv| fwel¨‡Z cÖ‡qvR‡b AviI e„nËi Kg©m~Pxi gva¨‡g nvgjv-gvgjv-jyUcv‡Ui Reve †`‡e|




৩০ বছরে মারা গেছে ১৫ জন রাজধানীতে বেড়েই চলছে অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ বিলবোর্ড


30 eQ‡i gviv ‡M‡Q 15 Rb
ivRavbx‡Z †e‡oB Pj‡Q
A‰ea I SyuwKc~Y© wej‡evW©

wjsKb gvngy`
ivRavbx‡Z A‰ea I SzuwKc~Y© wej‡evW© †e‡oB P‡j‡Q| bRiKvov weÁvc‡bi aviK G wej‡ev‡W©i Kvi‡Y MZ 30 eQ‡i ïay XvKv‡Z gviv †M‡Q 15 Rb| bMixi ¸iæZ¡c~Y© ¯’v‡b iv¯Ívi †gv‡o I gv‡K©U¸‡jv‡Z wej‡ev‡W©i Av¯Ívbvq cwiYZ n‡q‡Q| Gme wej‡evW© GKw`‡K †hgb bMixi ‡mŠ›`h© bó Ki‡Q Ab¨w`‡K e„wói G †gŠmy‡g gvby‡li Rxe‡bi SzwK I evov‡”Q| 
ivRavbxi kvnevM I iæcmx evsjvi †gv‡o gv_vi Dc‡i ZvKv‡jB †Pv‡L co‡e K‡qKk wej‡evW©| bvbv AvKv‡ii Gme wej‡ev‡W© ‡kvfv cv‡”Q n‡iK c‡Y¨i gbKvov iwOb weÁvcb| G‡¶‡Î UªvwdK wmMb¨v‡ji m‡½I Ry‡i †`qv n‡q‡Q wej‡evW©| 
                   · ivRavbx‡Z 3 nvRvi A‰ea wej‡evW© 
weÁvcbx ms¯’v¸‡jvi A‡b‡KB XvKv wmwU Ki‡cv‡ik‡bi (wWwmwm) Aby‡gv`b Qvov I Aby‡gv`‡b KviPywc K‡i bMix‡Z M‡o Zy‡j‡Q K‡qK nvRvi wej‡evW©| Soe„wó †gŠmyg ïiæ nIqvq Gme wej‡evW© ‡f‡O AveviI Rvbgv‡ji ¶wZ nIqvi Avk¼v i‡q‡Q| 

ivRavbx‡Z AZx‡Z G ai‡bi ‡ek wKQy `yN©Ubv N‡U‡Q| MZ 30 eQ‡i ivRavbx‡Z wej‡evW© ‡f‡O 15 Rb gviv ‡M‡Q| me©‡kl MZ eQi 15 gvP© S‡o ¸jkv‡b GKwU wej‡evW© ‡f‡O 2 R‡bi g„Zz¨ n‡qwQj| G NUbvq 18 gvP© cywjk‡K wb‡q A‰ea wej‡evW© Acmvi‡Yi KvR ïi“ K‡i XvKv wmwU K‡c©v‡ikb| K‡qKw`b c‡iB †_‡g hvq G Kvh©µg| c‡i D”P Av`vjZ MZ eQ‡ii 21 GwcÖj bMixi me wej‡evW© D‡”Q‡`i Av‡`k w`‡jI wWwmwm †mw`‡K †Zgb †Kvb bRi †`qwb| K‡qKw`b ivZfi Aí wKQymsL¨K wej‡evW© ‡f‡O ‡_‡g hvq wWwmwmi KvR| Gic‡i Avi Zv‡`i Kvh©µg †Pv‡L c‡owb| d‡j Avevi ivRavbx‡Z wej‡evW© msL¨v †e‡o hv‡”Q|
ivRavbx‡Z wWwmwmi Aby‡gvw`Z wej‡evW© i‡q‡Q 4k 85wU| m¤cÖwZ wWwmwmiB GK Rwi‡c ‡`Lv hvq, ivRavbx‡Z wZb nvRv‡ii AwaK wej‡evW© i‡q‡Q| Aby‡gvw`Z wej‡evW©¸‡jvi g‡a¨ gv‡c KviPywc K‡i wb‡R‡`i g‡Zv ‰Zwi K‡i‡Qb A‡b‡K| ivRavbx‡Z cÖvq 3 nvRvi wej‡evW© A‰ea I SyuwKc~Y©| ‡`‡k S‡oi ‡gŠmyg G‡m hvIqvq Gme wej‡evW© bMievmxi Rb¨ wec¾bK n‡q c‡o‡Q|  
bMixi me‡P‡q cÖ`k©b‡hvM¨ RvqMv¸‡jv‡Z wej‡evW© jvMv‡bv| Gme‡Zv Avi ‡Mvcb RvqMvq jyKv‡bv bv|  Gic‡iI bvwK wej‡evW©¸‡jv wWwmwm Kg©KZ©v‡`i ‡Pv‡L c‡i bv| 

wWwmwmi cÖavb eR¨© e¨e¯’vcbv Kg©KZ©v K¨v‡Þb (‡bŠ) wecb Kygvi mvnv Rvbvb, A‰ea wej‡evW©, ‡d÷yb wbR `vwq‡Z¡ mwi‡q ‡dj‡Z cwÎKvq weÁvcb ‡`Iqv n‡e| Avi iæwUb Awfhvb Ae¨vnZ i‡q‡Q e‡j Rvbvb wZwb| wZwb e‡jb, weÁwßi gva¨‡g mevB‡K wbR `vwq‡Z¡ A‰ea wej‡evW© mwi‡q ‡dj‡Z ejv n‡e| hviv GUv gvb‡e bv `yN©Ubv NU‡j `vqfvi Zv‡`iB wb‡Z n‡e|