বুধবার, ২০ জুলাই, ২০১১

পরিমলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি


AwffveK‡`i gvbeeÜb
cwig‡ji `„óvšÍg~jK kvw¯Íi `vwe
wjsKb gvngy`
wkÿK bv‡gi KjsK QvÎx wbh©vZbKvix cwigj Rqai Gi `„óvšÍg~jK kvw¯Íi `vwe‡Z gvbeeÜb K‡i‡Q wfKviæb wbmvi AvwRgcyi kvLvi AwffveK I evg bvix msMVb |
MZKvj eyaevi mKvj 11Uvq wfKviæbwbmv byb ¯‹zj G¨vÛ K‡jR AvwRgcyi kvLvi mvg‡b gvbeeÜb Kg©m~wP cvjb K‡i| gvbeeÜb Kg©m~Px‡Z mfvcwZZ¡ K‡ib mgvRZvwš¿K gwnjv †dvivg jvjevM _vbvi AvnŸvqK cÖ‡KŠkjx k¯úv emy| cwiPvjbv Ki‡eb msMV‡bi mvaviY m¤úv`K msMxZv ev‰o|
wfKviæbwbmv byb ¯‹yj I K‡jR AvwRgcyi kvLvi AwffveK gvbee܇b AskMÖnY K‡ib| gvbe܇b AwffveKiv cwig‡ji `„óvšÍg~jK wePvi `vwe K‡ib| Zviv e‡jb, cwig‡ji wePvi K‡i wfKviæb wbmvi cov‡jLv I ¯‹zj A½‡b my¯’ cwi‡ek wdwi‡q Avb‡Z n‡e| 
gvbee܇b e³viv e‡jb, cwigj Rqai KZ©„K QvÎx jvÃbvi NUbv wkÿKZvi gnvb †ckvi gh©v`v‡K fzjywÉZ K‡i‡Q| G NUbvq bvixmgvRmn †`‡ki mg¯Í RbMY AcgvwbZ I ÿzä| wfKviæbwbmv ¯‹zj cÖkvmb Awfhy³ wkÿ‡Ki weiæ‡× h_vmg‡q c`‡ÿc bv wb‡q Zv‡K iÿvi †Póv K‡i‡Q e‡j Awf‡hvM D‡V‡Q| gvbeeÜb †_‡K al©K cwigj Rqai Gi `„óvšÍg~jK kvw¯Í I g`Z`vZv‡`i wePvi `vwe Kiv nq|

নেতাজী সুভাষ চন্দ্রকে নিয়ে লেখা বইয়ের মোড়ক উন্মোচন


†bZvRx myfvl P›`ª‡K wb‡q †jLv eB‡qi †gvoK D‡b¥vPb
wjsKb gvngy`
fviZxq Dcgnv‡`‡k BwZnvm-Av‡›`vj‡bi Awemsevw`Z †bZv †bZvRx myfvl P›`ª †evm‡K wb‡q †jLv ÔwnR g¨vwRw÷« Ac‡b›U:myfvl P›`ª †evm G¨vÛ BwÛqvm ÷ªvMj G‡MB‡b÷ Bg‡cqviÕ MÖ‡š’i †gvoK D‡b¥vPb Kiv n‡q‡Q| MZKvj eyaevi mKvj mv‡o 10 Uvq XvKv wek¦we`¨vj‡qi beve bIqve Avjx †PŠayix wm‡bU fe‡b RvZxq Aa¨vcK mvjvDwÏb Avn‡g` MÖš’wUi †gvoK D‡b¥vPb K‡ib|
G mgq A_©gš¿x Aveyj gvj Avãyj gywnZ, wek¦we`¨vj‡qi †cÖv-wfwm Aa¨vcK W.nviæb Ai iwk`, Aa¨vcK wmivRyj Bmjvg I MÖ‡š’i †jLK myMZv †evm  Dcw¯’Z wQ‡jb |
†gvoK D‡b¥vPbKv‡j Kv‡j e³viv e‡jb, mgMÖ fviZe‡l© Awemsevw`Z †bZv wQ‡jb myfvl P›`ª †evm| fviZxq ¯^vaxbZv Av‡›`vj‡bi cvkvcvwk wZwb fviZ‡K MV‡bI Amvgvb¨ Ae`vb †i‡L‡Qb| Awnsm-D`viZvq bq, kw³ cÖ‡qvM K‡iB weªwUk‡`i weZvwiZ Ki‡Z n‡e G bxwZ‡Z wek¦vmx n‡qB wZwb fviZe‡l©i ¯^vaxbZv msMÖv‡g jvovB K‡i †M‡Qb| G Rb¨B  mgMÖ fviZevmx Zv‡K Ô†bZvRxÕ AvL¨v w`‡q‡Qb|

সরকার পতন না হলে ইসলামের উন্নতি হবে না


gvbee܇b Bmjvgx `j
miKvi cZb bv n‡j Bmjv‡gi DbœwZ n‡e bv
wjsKb gvngy`
Bmjvg we‡ivax G miKv‡ii cZb bv NUv‡j Bmjv‡gi DbœwZ n‡e bv| ‡h K‡iB ‡nvK G miKv‡ii cZb NUv‡Z n‡e| ‡LjvdZ Av‡›`vj‡bi gnvmwPe Rvdiæjøvn Lvb MZKvj eyaevi RvZxq †cÖm K¬v‡ei mvg‡b GK gvbee܇b G K_v e‡j‡Qb|
msweav‡b Avjøvni Dci Av¯’v, wek¦vm cybtcÖwZôvi `vwe‡Z Ges wemwgjøvni A_© weK…Z, ‡KviAvb we‡ivax bvixbxwZ, ag©nxb wk¶vbxwZ I gnvbex (m.) cªwZ a„óZv cÖ`k©‡bi cÖwZev‡` Bmjvgx I mggbv 12 `‡ji D‡`¨v‡M G gvbee܇bi Av‡qvRb Kiv nq|
gvbee܇b e³viv e‡jb, eZ©gvb AvIqvgx miKv‡ii nv‡Z Bmjvg KL‡bv wbivc` bq| ZvB ‡`‡ki mKj ¯Í‡ii gvbyl‡K wb‡q HK¨e× Av‡›`vjb K‡i wkMwMiB gZjeevR miKv‡ii cZb NUv‡bv n‡e|
Rvdi Djøvn Lvb e‡jb, miKvi ‡`‡ki beŸB kZvsk gvby‡li g‡b AvNvZ w`‡q ‡Kv‡bv msweavb ‡`‡k wUK‡e bv wUK‡Z cv‡i bv| wZwb e‡jb, GB miKv‡ii cZb bv NUv‡j ‡`‡ki gvbyl I Bmjvg ‡Kv‡bvwUB kvwšÍ‡Z _vK‡Z cvi‡e bv|
Bmjvgx HK¨‡Rv‡Ui gnvmwPe gvIjvbv Avãyj jwZd ‡bRvgx e‡jb, Kzdwi gZev` miKv‡ii Ae¯’v‡bi weiæ‡× Bmjvgx `j¸‡jvi Av‡›`vjb Ae¨vnZ _vK‡e| GB GKwU Bmy¨B miKvi cZ‡bi Rb¨ h‡_ó|
gvbe e܇b Ave`yi ie BDmydxi mfvcwZ‡Z¡ e³e¨ iv‡Lb GbwWwc'i ‡Pqvig¨vb L›`Kvi ‡Mvjvg gZz©Rv, Lwjjyi ingvb gv`vbx, gymwjg jx‡Mi gnvmwPe KvRx Aveyj Lv‡qi, gvIjvbv gwnDwÏb Ges GbwWwc gnvmwPe AvjgMxi gRyg`vi cÖgyL|

আহত ছাত্রকে ঢাবি উপাচার্যের ১লাখ টাকা দান


AvnZ Qv·K Xvwe DcvPv‡h©i 1jvL UvKv `vb
wjsKb gvngy`
‡PŠKm wµ‡KU †L‡jvqvo Ges XvKv wek¦we`¨vjq ivóªweÁvb wefv‡Mi gv÷v‡m©i QvÎ Kwei Dwχbi wPwKrmvi Rb¨ wek¦we`¨vjq KZ©„c¶ 1jvL UvKv cÖ`vb K‡i‡Q| XvKv wek¦we`¨vj‡qi DcvPvh© Aa¨vcK   W. Av Av g m Av‡iwdb wmwÏK MZKvj eyaevi Zuvi `dZ‡i GK Abyôv‡b  †gv: Kwei Dwχbi Kv‡Q 1 jvL UvKvi GKwU †PK n¯ÍvšÍi K‡ib| D‡j­L¨, ivóªweÁvb wefv‡Mi gv÷v‡m©i QvÎ Kwei DwÏb m¤cÖwZ wµ‡KU †Lj‡Z wM‡q AvnZ nb Ges kªeY kw³ nvwi‡q †d‡jb| eZ©gv‡b wZwb e½eÜz †kL gywRe †gwWK¨vj wek¦we`¨vj‡q wPwKrmvaxb i‡q‡Qb| we‡`kx wPwKrmK‡`i mgš^‡q GKwU kj¨ wPwKrmK `j wkMwMiB Zvi Kvb Acv‡ikb Ki‡e| Zvi wPwKrmv e¨q miKvi enb Ki‡Q|

রবিবার, ১৭ জুলাই, ২০১১

শত কোটি টাকার পুরনো বগি !

শত কোটি টাকার পুরনো বগি!

শনিবার, ১৬ জুলাই ২০১১
লিংকন মাহমুদ
 রেলের জন্য শত কোটি টাকার পুরনো বগি আনা হচ্ছে। ভারতের রেল বিভাগে অযোগ্য ঘোষিত এসব বগি এদেশের জন্য আনছে ওই দেশেরই কোম্পানি ট্যাক্সমাকো লিমিটেড। পুরনো বগিগুলো মেরামত ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজকর্ম সেরে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। রেলের বগিসহ অন্যান্য জিনিসপত্র পর্যবেক্ষণ করতে বাংলাদেশের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল এখন ভারত সফরে রয়েছে। তাই আগামী মাসের কোন এক সময় বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য পুরনো ১৬৫টি বিজি বগি ট্যাংক ওয়াগন, ছয়টি বিজি বগি ব্রেক ভ্যান ও ক্যাপিটাল যন্ত্রপাতি আসবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর জ্বালানি সরবরাহের নামে তড়িঘড়ি করে পুরনো ট্যাংক ওয়াগন আনার কোন মানে হয় না। এর ফলে রেল বিভাগে আরও দুরবস্থা তৈরি হবে। তেল পরিবহনে সমস্যা কাটানোর বদলে ঝামেলা আরও বাড়বে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনকে বারবার টেলিফোন করা হলেও তিনি ধরেননি। আর রেলপথ বিভাগের সচিব বাইরে থাকায় তাকে পাওয়া যায়নি। রেলপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, রেলের এসব যন্ত্রপাতি আনার জন্য কার্যাদেশ প্রদান শেষে সবেমাত্র চুক্তি হয়েছে। এখন এসব যন্ত্রপাতি তৈরি করতে কম করে হলেও ছয় থেকে সাত মাস সময় ব্যয় হওয়ার কথা রয়েছে। তবে ট্যাক্সমাকোর স্থানীয় এজেন্ট জানিয়ে দিয়েছে, দুয়েক মাসের মধ্যে তারা বগিগুলো সরবরাহ করতে পারবে। রেলপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রথম ধাপে বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ১৮০টি বিজি বগি ট্যাংক ওয়াগন, ছয়টি বিজি বগি ব্রেক ভ্যান ও ক্যাপিটাল বিভিন্ন যন্ত্রপাতি কেনার জন্য গত বছরের ২৫শে অক্টোবর দরপত্র আহ্বান করে বাংলাদেশ রেলওয়ের রাজশাহী অঞ্চল। এতে ভারতীয় কোম্পানি ট্যাক্সমাকো লিমিটেড, ব্রিজ অ্যান্ড রুফ কোম্পানি লিমিটেড, এমটেক রেল কার ইন্ডাস্ট্রিজ (প্রা.) লিমিটেড, জাগুয়ার ওভারসিজ লিমিটেড, হিন্দুস্তান ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এবং বেসকো লিমিটেড দরপত্র দলিল কিনে। তবে দরপত্র দলিলে কঠিন শর্ত থাকায় ট্যাক্সমাকো ছাড়া অন্য পাঁচ ভারতীয় কোম্পানি খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি। এজন্য গত ১৫ই ফেব্রুয়ারির তিনটি দরপত্রে অন্য কোন কোম্পানি অংশ নেয়নি। সবক’টি দরপত্র দলিলের শর্তে বলা ছিল, প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের রেলওয়ের ট্যাংক ওয়াগন সরবরাহে ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। এর বাইরে ৫০০০ ট্যাংক ওয়াগন সরবরাহের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। এছাড়া বিদেশের কোন রেলওয়ে প্রতিষ্ঠানে শতাধিক ট্যাংক ওয়াগন সরবরাহের অভিজ্ঞতা থাকবে হবে। এমন কঠিন শর্তের কারণে ভারতের সেরা পাঁচটি কোম্পানি দরপত্র প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়া থেকে বিরত থাকে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভারতীয় রেলওয়েতে ট্যাংক ওয়াগন সরবরাহ করে এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১২ টি। এসব কোম্পানির মধ্যে ট্যাক্সমাকোই শুধুমাত্র রেলওয়ের জুড়ে দেয়া শর্ত পূরণ করতে সক্ষম। ওদিকে দরপত্রের এমন কঠিন শর্তের মধ্যেও ট্যাক্সমাকোর সঙ্গে জাগুয়ার ওভারসিস লিমিটেড নামের ভারতীয় কোম্পানি অংশ নেয়। গেল বছরের ৬ই ডিসেম্বর দরপত্রে অংশ নেয়া জাগুয়ার ওভারসিস লিমিটেড ও ট্যাক্সমাকো লিমিটেডের টেকনিক্যাল অফার খোলা হয়। তবে কারিগরি মূল্যায়নে ট্যাক্সমাকো লিমিটেডের প্রস্তাবটি রেসপনসিভ ও জাগুয়ার ওভারসিস লিমিটেডের প্রস্তাবটি নন- রেসপনসিভ হিসেবে বিবেচনা করে রিপোর্ট দেয় দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি (টিইসি)। দরপত্র মূল্যায়ন রিপোর্টে টিইসি কমিটি জানায়, জাগুয়ার ওভারসিস লিমিটেড নন-রেসপনসিভ বিবেচিত হওয়ার কারণ তারা মডার্ন ইন্ডাস্ট্রিজের প্রস্তুত করা ট্যাংক ওয়াগন সরবরাহের প্রস্তাব করেছে। প্রস্তুতকারকের অভিজ্ঞতার সনদ পর্যালোচনা করে টিইসি কমিটি দেখতে পায়, তারা ২০০০ সাল থেকে ২০১০ সালের জুন পর্যন্ত ৯৭২টি ট্যাংক ওয়াগন সরবরাহ ও তৈরি করেছে। একই সঙ্গে ৩৫১টি ট্যাংক ওয়াগন সরবরাহের কার্যাদেশ তাদের হাতে রয়েছে। অর্থাৎ তাদের ১৫ বছরের বদলে ১০ বছর এবং ৫০০০ এর বদলে ৯৭২টি ট্যাংক ওয়াগন প্রস্তুত ও সরবরাহের অভিজ্ঞতা রয়েছে। একই সঙ্গে নন-রেসপনসিভ কোম্পানিটি বিদেশী কোন রেলওয়ে প্রতিষ্ঠানে ট্যাংক ওয়াগন সরবরাহের কোন প্রমাণ দিতে পারেনি। রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, দরপত্রের ডিপিপিকে পাশ কাটিয়েও যন্ত্রপাতি কিনছে রেলপথ বিভাগ। কারণ প্রকল্পের ডিপিপিতে ১৮০টি ট্যাংক ওয়াগন কেনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে রেসপনসিভ দরদাতা যন্ত্রপাতির মোট মূল্য বাবদ ১৩৩ কোটি ৭৯ লাখ ৩৫২০০ টাকা উল্লেখ করেছে। এর বিপরীতে ডিপিপিতে সংস্থান ছিল ১১৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এজন্য ১৮০টি ট্যাংক ওয়াগনের বদলে ১৬৫টি এবং অন্যান্য ক্যাটাগরির পণ্য কিছু কমিয়ে ১২০ কোটি ৯০ লাখ ৯৭০৫০ টাকা নির্ধারণ করার সুপারিশ করে টিইসি। এমন নানা কাহিনীর জন্ম দিয়ে গত মার্চে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে ট্যাক্সমাকোর প্রস্তাবটি অনুমোদন পায়। এরপর দ্রুতগতিতে কার্যাদেশ দেয়া হয়। এ মাসের প্রথম দিকে মালামাল সরবরাহের জন্য চুক্তিও হয়। তবে এখন রেল ভবনে বলাবলি হচ্ছে, নতুন নয় পুরনো মালামালই সরবরাহ করতে যাচ্ছে তারা। এজন্য সরকারের ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে তাদের সমঝোতাও হয়েছে। 

৫ দেশের বিজ্ঞানীদের হুঁশিয়ারি বাংলাদেশের মাটির নিচে বিশ্বের বৃহত্তম ভূমিকম্পের আলামত, ঢাকা এখন টাইম বোমার ওপর

৫ দেশের বিজ্ঞানীদের হুঁশিয়ারি বাংলাদেশের মাটির নিচে বিশ্বের বৃহত্তম ভূমিকম্পের আলামত, ঢাকা এখন টাইম বোমার ওপর

শনিবার, ১৬ জুলাই ২০১১
লিংকন মাহমুদ
 বাংলাদেশের মাটির নিচে পৃথিবীর পরবর্তী বৃহত্তম ভয়ঙ্কর ভূমিকম্পের ঘূর্ণন সৃষ্টি হচ্ছে? আতঙ্ক জাগানিয়া এ প্রশ্ন রেখেছেন একদল প্রথিতযশা সিসমোলজিস্ট। এ বিজ্ঞানীরা জাপান, হাইতি, সুমাত্রার উপকূলীয় অঞ্চল ও শহরগুলোজুড়ে সাম্প্রতিককালের ভূমিকম্প সংঘটনের পটভূমিতে তীক্ষ্ণ নজর রাখছেন, হিসাব কষছেন- এরপর তাহলে কোথায়? কোন দেশের ওপর নেমে আসতে পারে পরবর্তী বৃহত্তম ভূমিকম্প বিপর্যয়। বাংলাদেশকে নিয়ে লিখেছেন কেভিন ক্রাজিক। তিনি আর্থ ইনস্টিটিউটের সিনিয়র সায়েন্স রাইটার। ৩০ বছরের বেশি সময় তিনি সাংবাদিকতার সঙ্গে জড়িত। ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক, দ্য নিউ ইয়র্কার ও নিউজউইক পত্রিকায় নিয়মিত লিখে থাকেন তিনি। তবে এ পূর্বাভাস শুধু কেভিন ক্রাজিকের লেখা কোন প্রতিবেদন নয়। এটা সমষ্টিগতভাবে ধারণ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কলম্বিয়া ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ মোট নয়টি বিশ্ববিদ্যালয়। কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থ ইনস্টিটিউটের ওয়েবসাইটে লাল হরফে লেখা আছে, ‘বিনিথ বাংলাদেশ: দ্য নেক্সট গ্রেট আর্থকোয়েক’। এ প্রকল্পে অংশ নেয়া বিশ্বের অন্য সাতটি বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে- যুক্তরাষ্ট্রের কুইন্স কলেজ, টেনেসের ভ্যান্ডারবিল্ট, মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়, জার্মানির ব্রামিন বিশ্ববিদ্যালয়, ভারতের ফিজিক্যাল রিসার্চ ল্যাবরেটরি এবং বেঙ্গল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড সায়েন্স ইউনিভার্সিটি ও ইতালির একটি বিশ্ববিদ্যালয়।
উল্লেখ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থ অবজারভেটরি গ্রুপের একদল গবেষক বর্তমানে কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থ ইনস্টিটিউটে রয়েছেন।  
কেভিন ক্রাজিকের উল্লিখিত নিবন্ধ এবং ১০ মিনিটের একটি ডকুমেন্টারি গত ১৩ই জুলাই যৌথভাবে প্রকাশ করেছে নিউ ইয়র্কে অবস্থিত কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থ ইনস্টিটিউট। তারা দেখিয়েছে, বাংলাদেশের গভীর তলদেশে সক্রিয় হচ্ছে বহুপূর্বে সমাহিত হওয়া ‘ফল্টস’। পৃথিবী অতীতে কিভাবে ঘূর্ণন সম্পন্ন করেছে, অকস্মিকভাবে নদীর গতিপথ বদলে যাওয়ার তথ্যও বিশ্লেষণ করেছেন তারা। আর এসব বিবেচনায় নিয়েই তাদের এই আশঙ্কা ব্যক্ত করা।
কেভিন ক্রাজিক লিখেছেন, ১৬ কোটির বেশি মানুষের এ দেশটি বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ  এবং তা বাড়ছে দ্রততার সঙ্গে। দেশটি বিশ্বের বৃহত্তম নদী অববাহিকা এবং তা সমুদ্র উচ্চতার কাছাকাছি। এর ফলে বাংলাদেশ সুনামি হুমকিতে রয়েছে। ভূমিকম্প হলে নদীগুলোর তীর লাফিয়ে লাফিয়ে গতিপথ তার পরিবর্তন ঘটাবে। বড় বড় ব্রিজ ও বহুতল বিশিষ্ট ভবনগুলো ধসে পড়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। বিজ্ঞানীরা এটা স্বীকার করতে এগিয়ে এসেছেন যে, এ মুহূর্তে বেশ কিছু সক্রিয় ‘টেকটনিক প্লেট বাউন্ডারি’ ঘেঁষে আছে বাংলাদেশ। এর সঙ্গে আছে সুমাত্রায় ২০০৪ সালের সেই  প্রলয়ঙ্করী সুনামির লেজটা, যা কিনা দু’লাখ মানুষের প্রাণহানির কারণ হয়েছে। ওই লেজটি থেকে বাংলাদেশ মাত্র ১৩০০ কিলোমিটার দক্ষিণে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থ অবজারভেটরির  সিসমোলজিস্ট সৈয়দ হুমায়ুন আখতার বলেছেন, ‘বাংলাদেশের ঘনবসতিপূর্ণ রাজধানীর কাছে কোন ভূমিকম্প আঘাত হানলে তা (ছবি নিউ ৪৯৩) জিডির দিক থেকে আধুনিককালের অন্যসব বিপর্যয়কে ম্লান করে দেবে।’ তার কথায়, ঢাকা একটি টাইম বোমার ওপর রয়েছে।
‘বিপর্যয়’ পরিমাপ করতে এ বছরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশনের ৫০ লাখ ডলার ব্যয় সাপেক্ষ পাঁচ বছর মেয়াদি একটি প্রকল্পের কাজ শুরু হচ্ছে।
কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যামন্ট ডুহার্টি আর্থ অবজারভেটরিতে এখন রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিসমোলজিস্টরা।  তাদের সঙ্গে আছেন টেনেসি অঙ্গরাজ্যের ভ্যান্ডারবিল্ট ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব মিনেসোটা, নিউ ইয়র্কের কুইন্স কলেজ। ইতালি, জার্মানি ও ভারতীয় সিসমোলজিস্টরাও রয়েছেন। বিজ্ঞানীরা এখন এমন একটি সিসমোমিটার সচল ও কার্যকর করে তুলছেন যাতে মাটির যথেষ্ট তলদেশে সংঘটিত মৃদু কম্পনও রেকর্ড করবে। হিমালয় থেকে ধেয়ে আসা এক সময়ের শক্তিশালী নদী বয়ে এনেছিল বিপুল পরিমাণ বালু ও মাটি। এসব যেখানে জমাট হয়েছে তার ১২ মাইল নিচ পর্যন্ত সক্রিয় থাকা ‘ফল্টস’ শনাক্ত করে উপযুক্ত ম্যাপ তৈরিতে সহায়তা দেবে। রিভারবেডের কাছে বিজ্ঞানীরা এখন ২৫০টি কূপ খনন করার কাজ এগিয়ে নিচ্ছেন। সেডিমেন্ট স্যাম্পেল সংগ্রহ করাই এর লক্ষ্য। বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, এই সমীক্ষার ফলে অতীতে সংঘটিত ভূমিকম্প ও নদীর গতিপথ পরিবর্তনের সময় ও পরিধি সম্পর্কে সম্যক ধারণা মিলবে। ওই ভূমিকম্পগুলো হয়তো দেশটির বিরাট জায়গা গিলে খেয়েছে, তখন অবশ্য বাংলাদেশ এ রকম ঘনবসতিপূর্ণ ছিল না। চলমান গবেষণার লক্ষ্য হলো বাংলাদেশী বিজ্ঞানী ও জাতীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে দরকারি তথ্য-উপাত্তের যোগান দেয়া, যার সাহায্যে তারা ভূমিকম্পের ঝুঁকি কমাতে উপযুক্ত পদক্ষেপ নিতে পারেন।
এ প্রকল্পে কর্মরত লেমন্ট সিসমোলজিস্ট লিওনার্দো সিবার (ছবি নিউ-৪৭৩) বলেন, ‘আর্থ সায়েন্স, নেচারাল হ্যাজার্ড ইঞ্জিনিয়ারিং এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মধ্যে আমরা একটি কৌশলগত কনফু্লয়েন্স বা ঐক্যসূত্র খুঁজে পাচ্ছি। চলতি মাসে ওয়শিংটনে এসেছেন প্রকল্পের মূল অনুসন্ধানী মাইকেল স্টেকলার। একটি নতুন কর্মসূচি শুরু করতেই তার এ সফর। এনএসএফ এবং ইউএসএইড যৌথভাবে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে হোয়াইট হাউস অফিস অব সায়েন্স অ্যাণ্ড টেকনোলজি পলিসির পরিচালক জন পি হোলডার্ন বলেন, ‘বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের প্রয়োগ ঘটিয়ে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর সঙ্গে অংশীদারিত্বের  সম্পর্ক বৈশ্বিক উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এর সুফল উন্নয়নশীল দেশগুলো যেমন, তেমনি শিল্পোন্নত দেশগুলোও পাবে।

ভিকারুননিসা নিয়ে রাজনৈতিক খেলা

ভিকারুননিসা নিয়ে রাজনৈতিক খেলা

শনিবার, ১৬ জুলাই ২০১১
লিংকন মাহমুদ
রাজনীতির খেলায় ক্ষত-বিক্ষত ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ। টানা এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে রীতিমতো ‘ডেড লক’ হয়ে পড়েছে এর শিক্ষা কার্যক্রম। ছাত্রীরা ক্লাস রুম ছেড়ে রাজপথে। অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন। প্রতিষ্ঠানের পেশাদার শিক্ষকরা ক্ষুব্ধ-বিব্রত। ভর্তি, নিয়োগ , পদোন্নতি এ প্রতিষ্ঠানের সর্বত্রই রাজনীতি। ছাত্রী উত্ত্যক্তকারী পরিমল জয়ধরের শাস্তি এবং তার আশ্রয়দাতাদের অপসারণে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা যখন আন্দোলনে তখন এ নিয়ে শুরু হয় খেলা। এ খেলারই অংশ কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দু’জন অধ্যক্ষ নিয়োগ, নাটকীয়ভাবে পরিচালনা পর্ষদ বাতিল ও এডহক কমিটি গঠন। এ পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে, ঐতিহ্যবাহী এ প্রতিষ্ঠানে আসলে কি ঘটছে? এসব পরিবর্তনে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রেখেছেন এক কর্মকর্তা। সংশ্লিষ্টরা জানান, শিক্ষক পরিচয়ে ছাত্রী উত্ত্যক্তকারী পরিমলের নিয়োগ থেকে শুরু করে যে করেই হোক তাকে রক্ষা- এসবই হয়েছে রাজনৈতিক বিবেচনায়। পরিমলের সঙ্গে আরও পাঁচ শিক্ষককে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। পরিমলের অপরাধ ধামাচাপার চেষ্টায় অধ্যক্ষ প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছিলেন। তাই তার অপসারণ নিয়ে যখন উত্তেজনা তৈরি হয় তখন সরকার, প্রশাসন, শিক্ষাবোর্ড সর্বত্রই এর ঢেউ লাগে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এত দিন এ নিয়ে শিক্ষাবোডের্র কোন তৎপরতাই ছিল না। অধ্যক্ষ হোসনে আরা বেগমের অপসারণের সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার পর হঠাৎ বোর্ডের ইউটার্ন। সরকারের তরফে বোর্ডই সব করেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে অধ্যক্ষের কক্ষে কথা হয় দু’জন শিক্ষকের সঙ্গে। তারা জানান, সিনিয়র শিক্ষকসহ ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আম্বিয়া খাতুনকে শিক্ষাবোর্ডে ডাকা হয়েছে। ওইসব শিক্ষকের দলে ছিলেন মিন্নাতুল মোহর, মঞ্জুয়ারা বেগম, রোকসানা শামীম, আখতারী বাশার ও সুফিয়া খাতুন। বোর্ড চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠকেই ঘটে নাটকীয়তা। বৈঠকে বসেই চেয়ারম্যান বলেন, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগ বিধিসম্মত হয়নি। পরিচালনা পর্ষদ অবৈধভাবে এ নিয়োগ দিয়েছে। তাছাড়া পর্ষদই বাতিল করা হয়েছে। তাই বিধিমোতাবেক আম্বিয়া খাতুন অধ্যক্ষ নন। চেয়ারম্যানের বক্তব্য মেনে নিতে পারেননি উপস্থিত শিক্ষকরা। তারা প্রতিবাদ করেন। সবচেয়ে সিনিয়র আম্বিয়া খাতুনের বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত চান তারা। কিন্তু চেয়ারম্যান তার বক্তব্যে অবিচল থাকেন। হোসনে আরা বেগম ছুটিতে যাবেন জানিয়ে চেয়ারম্যান চলতি দায়িত্ব দেয়ার জন্য শিক্ষকদের পরামর্শ চান। এ সময় উপস্থিত শিক্ষকরা অনুরোধ করেন আম্বিয়া খাতুনকে দায়িত্ব দিতে। কিন্তু এ ক্ষেত্রেও চেয়ারম্যান আপত্তি করেন। বলেন, আম্বিয়া খাতুনকে নিয়োগ দেয়া যাবে না। কোন কারণ ব্যাখ্যা করতে চাননি তিনি। বলেন, তাকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে নিয়োগ দিতে হবে। সিনিয়র শিক্ষক আম্বিয়া খাতুনকে রেখে অন্য কাউকে নিয়োগ দিলে তাকে অপমান করা হবে বলে দু’জন শিক্ষক কান্নাজড়িত কণ্ঠে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করেন। তাকে অন্তত তিন মাসের জন্য নিয়োগের অনুরোধ করেন তারা। কিন্তু তাতেও চেয়ারম্যান রাজি হননি। বলেন, আমাদের সীমাবদ্ধতা আছে। শিক্ষকরা বলেন, সিনিয়র হিসেবে নিয়োগ হলে আম্বিয়া খাতুনই অধ্যক্ষ হতেন। পরিচালনা পর্ষদও তাই করেছিল। কিন্তু জেদের বশে সরকার তা কার্যকর করতে দেয়নি। দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন মিন্নাতুল মোহর। তিনি এ সিদ্ধান্তে বিব্রতবোধ করেছেন। আম্বিয়া খাতুনকে বাদ দিয়ে তার নাম প্রস্তাবের প্রতিবাদ করেছেন। তিনি দায়িত্ব নিতে অপারগতা প্রকাশ করে প্রতিবাদটি জোরালো করেছেন। অধ্যক্ষ পদের জন্য হোসনে আরার সঙ্গে তিনিও প্রার্থী হয়েছিলেন। দু’জনকে টপকিয়ে তৃতীয় স্থানে থাকা মঞ্জুয়ারাকে দায়িত্ব দেয়া নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। তার এ পরিচয়ের বাইরেও পরিচয় রয়েছে। বড় পরিচয় তিনি সরকারের প্রভাবশালী এক মন্ত্রীর খালা শাশুড়ি। তবে বোর্ড চেয়ারম্যান এ নিয়োগের একটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন। মানবজমিন-এর সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, সিনিয়রিটির দিক বিবেচনা করলে প্রথমজনকে নিয়োগ দেয়া যেতো। আমি শিক্ষকদের কাছে নাম চাই। দ্বিতীয় সিনিয়র শিক্ষক নিজে দায়িত্ব নিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করায় মঞ্জুয়ারাকে দায়িত্ব দেয়া হয়।
আম্বিয়া খাতুন বরাবরই শ্যাডো অধ্যক্ষ: সরকার কিংবা পরিচালনা পর্ষদের পছন্দের তালিকায় নাম না থাকলেও শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের কাছে তার আসন সবার উপরে। সবার পছন্দের তালিকায় শিক্ষক হিসেবে তার অবস্থান অনন্য। বর্ণাঢ্য জীবন তার। এ প্রতিষ্ঠানেই আছেন তিন দশকের বেশি সময়। ১৯৬৭ সালে ময়মনসিংহের মুসলিম গার্লস স্কুল থেকে প্রথম বিভাগ পেয়ে এসএসসি পাস করেন। ১৯৬৯ সালে ময়মনসিংহের মোমেনুন নিসা সরকারি গার্লস কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিষয়ে প্রথম বিভাগে এইচএসসি পাস করেন। ১৯৭৩ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগ থেকে সেকেন্ড ক্লাস (৪র্থ ) ও ১৯৭৫ সালে একই বিভাগ থেকে সেকেন্ড ক্লাস (৪র্থ) নিয়ে মাস্টার্স পাস করেন। তিনি ১৯৭৭ সালের ৩রা জানুয়ারি ভিকারুননিসার স্কুল শাখায় যোগ দেন। ১৯৭৮ সালে একই প্রতিষ্ঠানের কলেজ শাখায় যোগ দেন। দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে তার রয়েছে নানা অর্জন। তার সহকর্মীরা বলেন, আম্বিয়া খাতুন ধার্মিক তবে গোঁড়া নন। তিনি বোরকা ও হিজাব পরেন। শিক্ষক হিসেবে কলেজে অত্যন্ত জনপ্রিয় তিনি। বিলুপ্ত পরিচালনা পর্ষদের একজন সদস্য বলেন, পর্ষদের সভাপতি দেশে নেই। সদস্য সচিব ৬ দিন ধরে ছুটি ছাড়া অনুপস্থিত। এ অবস্থায় বৈঠক করে সবার মতামত নিয়ে সিনিয়র হিসেবে আম্বিয়া খাতুনকে ভারপ্রাপ্ত করা হয়েছিল। এতদিন শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করলেও বোর্ড এগিয়ে আসেনি। সঙ্কট নিরসনে পর্ষদের সদস্যরা যখন একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তখন পাল্টা পর্ষদই বাতিল করে দেয়া হয়েছে। বোঝাই যাচ্ছে বিষয়টা নিয়ে রাজনীতি হচ্ছে। তিনি বলেন, আম্বিয়া খাতুনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল সিনিয়র শিক্ষক বিবেচনাতেই। তিনি কোন রাজনীতি করেন না। একজন শিক্ষক বলেন, অধ্যক্ষ হোসনে আরাকে অপসারণ ও আম্বিয়া খাতুনকে অধ্যক্ষ নিয়োগের বিষয়টি মেনে নিতে পারেনি সরকার। সরকার পাল্টা অ্যাকশনে যায়। পর্ষদের বৈঠকে যে ৫ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন তাদের একজন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। আম্বিয়া খাতুনকে অধ্যক্ষ হিসেবে যাতে মেনে না নেয়া হয় এ জন্য একটি মহল অপপ্রচার চালায়। বলা হয়, তিনি মৌলবাদী। অথচ হোসনে আরা বেগম অধ্যক্ষ থাকাকালে আম্বিয়া খাতুনই তার সব কাজকর্ম করতেন। সব বিষয়ে তার অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাকে নিয়ে সরকার অহেতুক বিতর্ক তৈরি করেছে। আগামী ৩১শে অক্টোবর তিনি অবসরে যাবেন। তার স্বামী লিয়াকত আলী খানও শিক্ষকতা করেছেন দীর্ঘদিন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগে অধ্যাপনা করে এখন তিনি অবসরে। নিঃসন্তান এ শিক্ষক দম্পতির প্রশংসা শোনা যায় ভিকারুননিসার শিক্ষকদের মুখে মুখে।
বিলুপ্ত পর্ষদের অনিয়ম দুর্নীতির তদন্ত চলছে: পোড় খাওয়া রাজনীতিক রাশেদ খান মেননের নেতৃত্বাধীন ভিকারুননিসার বহুল আলোচিত পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের অনিয়ম দুর্নীতির তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা বোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর ফাহিমা খাতুন। গতকাল দুপুরে মানবজমিন-এর সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি বলেন, তদন্ত কমিটি কাজ করছে। দুর্নীতি প্রমাণিত হলে পরিমলসহ এ আমলে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীর নিয়োগ বাতিলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তাদের নিয়োগ বাতিল হবে কিনা- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, তদন্তে অবৈধ প্রমাণ হলে আমরা বাতিলের জন্য মাউশিকে সুপারিশ করবো। তিনি বলেন, ভিকারুননিসার বসুন্ধরা শাখায় পরিমল জয়ধরসহ যে ৬ জন শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছিল তার পেছনে কারও উদ্দেশ্য ছিল এটা বোঝা যাচ্ছে। আশা করি, তদন্তে সব খোলাসা হবে। বোর্ডের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সঙ্কট নিরসনেই বোর্ড হস্তক্ষেপ করেছে, এখানে অন্য কিছু নয়। আমরা পাল্টা অ্যাকশনে গিয়েছি- এটা ভাবা ঠিক নয়। প্রতিষ্ঠানটির পর্ষদে কারা রয়েছেন তা আমরা আগেই জানতাম। ঘটনার পরপর পর্ষদ পরিস্থিতি সামাল না দিয়ে হঠাৎ করেই হোসনে আরাকে অপসারণ করে আরেক জনকে নিয়োগ দিয়েছে। এর পেছনে অবশ্যই বিশেষ উদ্দেশ্য ছিল। মঞ্জুয়ারা বেগমকে কোন বিবেচনায় অধ্যক্ষ নিয়োগ দেয়া হয়েছে জানতে চাইলে বোর্ড চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফাহিমা খাতুন বলেন, আগের অধ্যক্ষ হোসনে আরা তিন মাসের ছুটি নিয়েছেন। কলেজের পরিস্থিতিও স্বাভাবিক নয়। তাই আমরা মঞ্জুয়ারাকে চলতি দায়িত্ব পালনের জন্য নিয়োগ দিয়েছি। তাহলে কি হোসনে আরা এখনও ভিকারুননিসা কলেজের অধ্যক্ষ- জানতে চাইলে চেয়ারম্যান বলেন, বিধি অনুযায়ী আমরা কাউকে নিয়োগ দিতে পারি না, বরখাস্তও করতে পারি না। এটা করার দায়িত্ব পরিচালনা পর্ষদের। পরিস্থিতি সামাল দিতে একজনকে চলতি দায়িত্ব দিয়েছি। পর্ষদ বাতিল করে এডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এডহক কমিটিই এখন স্থায়ী অধ্যক্ষ নিয়োগ দেবে। তারা ৬ মাসের মধ্যে নির্বাচিত প্রতিনিধির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন। পরিচালনা পর্ষদ তো একজনকে নিয়োগ দিয়েছিল সেটা মেনে নেয়া হলো না কেন- জানতে চাইলে তিনি বলেন, তারা অবৈধভাবে তাকে নিয়োগ দিয়েছিল। এখন পর্ষদই বাতিল করা হয়েছে। এ পর্ষদই তো ৯৪ জন শিক্ষক-কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছে, ওই সব নিয়োগ কি বাতিল হবে- জানতে চাইলে বলেন, তদন্তে অবৈধ প্রমাণ হলে তা-ও বাতিল হবে।
হোসনে আরা যা বললেন: হোসনে আরা বলেন, যে কোন বিবেকবান মানুষই জানেন আমি এ পরিস্থিতির জন্য দায়ী নই। এখানে আমার কোন সম্পৃক্ততা নেই। আমি দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছি। প্রথমে আমার কাছে একটা স্বাভাবিক আবেদনপত্র আসে ২৮শে জুন। তাতে যৌন হয়রানি সংক্রান্ত একটি শব্দও লেখা ছিল না। অপরাধ করেছে পরিমল জয়ধর। তার শাস্তি আমার কেন? আমি পরিমল জয়ধরকে নিয়োগ দিইনি। নিয়োগ দিয়েছে গভর্নিং বডি। দায়িত্ব গভর্নিং বডির। অধ্যক্ষ কাউকে নিয়োগ দেয়নি। তিনি বলেন, পরিমল তার ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানে অপরাধ করেছে। আমি ৪ঠা জুলাই ছাত্রীর লিখিত অভিযোগ পাই। সেটি ছিল অত্যন্ত মর্মান্তিক। অভিযোগ পাওয়ার পরই ৫ই জুলাই তাকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করেছি। তিনি বলেন, বসুন্ধরায় সত্যিই লোহমর্ষক ঘটনা ঘটেছে। আমরা বরখাস্ত করার পর বাড্ডা থানাকে অবহিত করেছি। ৬ই জুন পরিমল গ্রেপ্তার হয়েছে। তিনি বলেন, ২৮শে মে ওই ছাত্রী প্রথম যৌন হয়রানির শিকার হয়। দ্বিতীয় দফায় ১৭ই জুন। আমাদেরকে প্রথমে জানানো হয়নি। বসুন্ধরার দিবা শাখার ছাত্রীর সঙ্গে ওই ঘটনা ঘটেছে। প্রথমে দায়িত্ব দিবা শাখার প্রধান আফিয়া সুলতানার। তার বিরুদ্ধে তো একটা কথাও বলেনি কেউ। শাখাপ্রধান লুৎফুর রহমান বিষয়টি প্রথমে গুরুত্ব দেননি। আমি জেনেছি সবার পরে। তিনি বলেন, পরিমলের শাস্তি আমিও চাই। পরিমলকে ব্যবহার করে আমার বিরুদ্ধে আন্দোলন হলো কেন? আমার পদত্যাগ কেন? এটা বোঝা যাচ্ছে পরিকল্পিত। তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা কথা বলা হয়েছে। ছাত্রীদের লেলিয়ে দেয়া হয়েছে। ছাত্রীদের সঙ্গে আমার মধুর সম্পর্ক। তা নষ্ট করা হয়েছে। আমাকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমি দায়িত্ব পাওয়ার পর দু’-একজন ছাড়া কেউ আমার বিরুদ্ধে কথা বলেনি। তিনি বলেন, ভিাকরুননিসা নিয়ে পুরো দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে। আমিই উদ্যোগী হয়ে প্রথম শ্রেণীতে পরীক্ষার বদলে লটারি চালু করেছিলাম। তখনও কিছু লোক আমার পদত্যাগ চেয়ে মানববন্ধন করেছিল। ছাত্রীদের ভুল বুঝিয়ে প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ নষ্ট করা হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে মিথা তথ্য পরিবেশন করা হয়েছে। পত্রিকাতেও আমাকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমি ৩৬ বছরের শিক্ষকতা জীবনে অনেককেই মানুষ করেছি। কাউকে অমানুষ করিনি। আমার ভালমানুষী পুঁজি করে একটি চক্র পেছন থেকে কলকাঠি নেড়েছে। হঠাৎ করেই আমার বিরুদ্ধে এত প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার চলে এলো কোথা থেকে? কারা এসবের যোগানদাতা? আমি এখন তিন মাসের ছুটি নিয়েছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হোক। প্রতিষ্ঠানটির ঐতিহ্য ফিরে আসুক। বসুন্ধরা শাখায় একদিনে পরিমলসহ একই এলাকার ৬ জন শিক্ষক নিয়োগ পেলো কিভাবে- জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেটা গভর্নিং বডিকে জিজ্ঞেস করুন। অধ্যক্ষ কোন নিয়োগ দেয় না। যা করার সব গভর্নিং বডি করেছে। দায়দায়িত্ব গভর্নিং বডির। তবে এটা সত্য, আমার সময়ে ৯০ জন শিক্ষক-কর্মকর্তা নিয়োগ পেয়েছেন। আমি যোগ দেয়ার আগে তিন বছর নিয়োগ হয়নি। প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের প্রয়োজন ছিল। তিনি আরও বলেন, বসুন্ধরা শাখার যাত্রা শুরু হয় ৩ জন নারী শিক্ষক ও ৫ জন পুরুষ শিক্ষক নিয়ে। সেখানে কেউ যেতে চায়নি। তাই গভর্নিং বডি সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়োগ দিয়েছে। তিনি বলেন, দিবা শাখার প্রধান আমাকে একবার জানিয়েছিলেন বসুন্ধরা শাখার পুরুষ শিক্ষকদের চালচলন ভাল না, তখন আমি সবাইকে ডেকে বলেছি ভালমতে শিক্ষকতা করলে করো, তা নাহলে চাকরি ছেড়ে চলে যাও। সেখানে প্রথমে কি ঘটেছিল তা তো আমি জানতাম না। জানার পর তো দেরি করিনি। তাহলে আমার বিরুদ্ধে কেন আন্দোলন হলো? হঠাৎ করে পরিমলের নাম সবাই ভুলে গেল। শুরু হয়ে গেলে অধ্যক্ষের পদত্যাগ চাই। আমি কি অপরাধ করেছি? তিনি বলেন, অপরাধ করেছে পরিমল। আমিও তার উপযুক্ত শাস্তি চাই। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নিলাম। অথচ আমার বিরুদ্ধেই আন্দোলন হলো। এ আন্দোলন পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এটা বোঝাই যাচ্ছে।